Tuesday, November 5, 2019

ডায়াবেটিস থেকে আজীবন বাচার ৯ টি প্রমাণিত উপায়


আমাদের নিত্য ব্যবহার্য শব্দগুলোর মধ্যে এখন ডায়াবেটিস শব্দটি বেশ কমন হয়ে পড়েছে। কেননা ডায়াবেটিস যেন এখন মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। দেখা যাবে যে আমাদের আশেপাশেরই কারো না কারো ডায়াবেটিস আছে।

এমনকি জরিপে দেখা গেছে, ১৯৮০ সালে বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল যেখানে ১০৮ (১০ কোটি ৮০ লাখ) মিলিয়ন সেখানে তা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২ (৪২ কোটি ২০ লাখ)। এ থেকেই বুঝা যায় সামনে দিনে পরিস্থিতি আরো কত ভয়াবহ হতে চলেছে।

আমরা ইতিমধ্যেই জানি যে, ডায়াবেটিস হলো একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট রোগ। যার কারণে দেহ যথেষ্ট পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে বা ইনসুলিন প্রত্যাখ্যান করে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে।

রক্তে সুগারের মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়।

ডায়াবেটিসের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হলো এই রোগ কখনো পুরোপুরি ভালো হয় না। তবে এর লক্ষণগুলো দূর করা যায় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তবে এমন কিছু প্রমাণিত উপায় রয়েছে যেগুলো নিয়মিতভাবে মেনে চললে আপনি জীবনে কখনো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন না। যদি না আপনার পরিবারের ডায়াবেটিসের কোনো ইতিহাস না থাকে।

১. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা

দেহের ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত রাখার মধ্য দিয়ে শুধু ডায়াবেটিসই নয় বরং আরো নানা ধরনের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়। স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০% কমে আসবে।

২. সালাদ খান

প্রতিদিন অন্তত এক বাটি সালাদ খান। যার মধ্যে থাকবে গাজর, শসা, লেটুস, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি। প্রতিদিন দুপুরে বা রাতে খাবার খাওয়ার আগে এই সালাদ খেতে হবে। সালাদে এক চা চামচ ভিনেগারও যুক্ত করতে পারেন। ভিনেগার রক্তকে কমমাত্রায় সুগার শোষণে সহায়তা করে। আর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমবে।

৩. প্রচুর হাঁটাহাঁটি করুন

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক সেরা ব্যায়ামগুলোর একটি হাঁটাহাঁটি। প্রতিদিন অন্তত ৪০মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই আপনার বিপাকীয় হার এমন পর্যায়ে থাকবে যা আপনার দেহে ইনসুলিনের মাত্রাকেও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে যথেষ্ট। ফলে ডায়াবেটিসেরও ঝুঁকিও কমে আসবে।

৪. পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য খান

ওটমিল, বার্লি, ব্রাউন রাইস, ভুট্টা, বাজরা ইত্যাদি পূর্ণ শস্য জাতীয় খাদ্য দিয়ে সকালের নাস্তা করুন। পূর্ণ শস্য জাতীয় খাদ্যে আছে আঁশ, যা রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে সহায়ক। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে। এছাড়া পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগ থেকেও বাঁচাবে।

৫. কফি পান করুন

বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন অন্তত দুই কাপ কফি পান করলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসে ২৯%। তবে চিনি ছাড়া কফি পান করতে হবে। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এই কাজ করে।

৬. ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন

আজকাল চাইলেই হাতের কাছে পাওয়া যায় নানা ধরনের ফাস্টফুড। যা দেখে হয়তো লোভ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু ফ্রাইস, পিজ্জা, বার্গার এর মতো ফাস্ট এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে স্থুলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, হজমে সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এসব খাবার দেহে ইনসুলিনের মাত্রায়ও ক্ষতিকরভাবে হেরফের ঘটিয়ে দিতে পারে। যা থেকে ডায়াবেটিসও হতে পারে।

৭. দারুচিনি খান

দারুচিনি তেল বা পাউডার আকারে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসে ৪৮%! গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, দারুচিনির আছে অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা কমিয়ে আনার প্রাকৃতিক সক্ষমতা। আর এই দুটি উপাদান প্রাকৃতিক ভাবে কমিয়ে আনতে পারলে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে আসে।

৮. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকুন

মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগও হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে। সুতরাং আপনি যদি এমন কেউ হন যিনি প্রায়ই তীব্র মানসিক চাপে থাকেন তাহলে রিল্যাক্স করার নানা কৌশল এবং যোগ ব্যায়াম করে স্ট্রেস কমান। এতে আপনার দেহে কর্টিসোল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।

৯. ধুমপান ত্যাগ করুন

স্ট্রেসের মতোই ধুমপানও নানা ধরনের মারাত্মক রোগের আরেকটি কারণ। ফুসফুস ক্যান্সার এর মতো ভয়ঙ্কর রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিসেরও একটি কারণ ধুমপান। সুতরাং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে না চাইলে আজই ধুমপান ছেড়ে দিন।


সূত্র - কালের কণ্ঠ

ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পাওয়ার ২০ টি উপায়

শুধু বুড়ো মানুষই নয়, বহু তরুণও এখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। ডায়াবেটিসের সরাসরি নিরাময় না থাকায় এতে আক্রান্ত হলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তবে কিছু উপায় রয়েছে যা আগে থেকে পালন করলে ডায়াবেটিস দূরে রাখা যায়। এ লেখায় রয়েছে ডায়াবেটিস সচেতনতার তেমন কিছু উপায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

১. ডায়াবেটিসকে জানুন

শরীরের ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতায় রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে ডায়াবেটিসের সৃষ্টি হয়। সময় থাকতেই ডায়াবেটিস সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো। এতে আগে থেকেই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়।

২. খাবারের পরিমাণ কমান

মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়া ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। এ কারণে খাবারের পরিমাণ কমানো উচিত আগেভাগেই। খাবার খাওয়া কমানোর জন্য ছোট ছোট প্লেটে অল্প করে খাবার নিতে পারেন। এছাড়া খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলেও তাতে খাবারের পরিমাণ কমতে পারে।

৩. শারীরিক অনুশীলন করুন

আপনি যদি নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করেন তাহলে তা নানাভাবে আপনার স্বাস্থ্যের উপকার করবে। বিশেষ করে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন রোগ দূরে রাখায় এর ভূমিকা রয়েছে। এতে ডায়াবেটিসের মতো রোগও দূরে থাকবে।

৪. ওজন কমান

শরীরের ওজন যদি বেশি বেড়ে যায় তাহলে তা ডায়াবেটিসকে ডেকে আনতে পারে। তাই দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. লাল আটার খাবার

ধবধবে সাদা আটা-ময়দা বাদ দিয়ে লাল আটার তৈরি রুটি ও অন্যান্য খাবার খান। এটি আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।

৬. সকালের নাস্তা গুরুত্ব দিন

সকালের নাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি কখনোই বাদ দেওয়া ঠিক নয়। সকালের নাস্তায় প্রোটিন যুক্ত করলে তা সারাদিনের ক্ষুধা কমায়। এতে শরীর যেমন সুস্থ থাকে তেমন ডায়াবেটিসও দূরে থাকে।

৭. ফ্যাটযুক্ত খাবার বাদ দিন

ফাস্ট ফুড দোকানের জাংক খাবার ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর খাবারে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, যা আপনার রক্তে ক্ষতিকর কোলস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি রক্তের শর্করার মাত্রাও বাড়ায়। তাই এসব খাবার বাদ দিতে হবে।

৮. মিষ্টি পানীয় বাদ দিন

তেষ্টা পেলেই মিষ্টি পানীয় বা কোমল পানীয় পান করার অভ্যাস বাদ দিন। মূলত যে কোনো মিষ্টি পানীয়ই ক্ষতিকর। তাই এসব পানীয় সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন।

৯. স্বাস্থ্যকর খাবার খান

আপনি যদি বিকালের ক্ষুধা নিবৃত্ত করার জন্য অস্বাস্থ্যকর পিজা বা ফাস্ট ফুড বাদ দিয়ে তাজা ফলমূল কিংবা সালাদ খেতে পারেন তাহলে তা ডায়াবেটিস থেকে আপনাকে রক্ষায় সহায়তা করবে।

১০. সবজি খান

অনেকেই সবজি খেতে মোটেই আগ্রহী থাকেন না। যদিও সবজি আপনার বহু উপকার করতে পারে। তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্যতালিকায় রাখুন পর্যাপ্ত সবজি।

১১. মানসিক চাপমুক্ত থাকুন

মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। প্রয়োজনে ইয়োগা, মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন।

১২. ভালোভাবে ঘুমান

রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। এতে আপনার দেহের ওপর চাপ কমবে এবং ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ দূরে থাকবে। ঘুমের অভাবে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষতি হয়।

১৩. আঁশযুক্ত খাবার খান

যেসব শাক-সবজি ও খাবারে প্রচুর আঁশ রয়েছে সেসব খাবার খান। এতে আপনার টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে আঁশযুক্ত খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। এতে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

১৪. প্রচুর পানি পান করুন

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।পানি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম চালানো সহজ করে দেবে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে দেহের নানা সমস্যা হতে পারে।

১৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো নীরবেই থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা তা বুঝতে পারেন না। ফলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

১৬. সূর্যতাপ গ্রহণ করুন

ভিটামিন ডি দেহের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। আর সূর্যতাপ ভিটামিন ডি গ্রহণের অন্যতম উপায়। তাই নিয়সিক সূর্যতাপ গ্রহণে ডায়াবেটিস দূরে থাকে।

১৭. মসলাসমৃদ্ধ খাবার খান

জার্মান গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনিসমৃদ্ধ খাবার ডায়াবেটিস দূরে রাখতে সহায়তা করে। তাই খাবারে দারুচিনিসহ বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করুন।

১৮. সয়ার খাবার খান

সয়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। তাই সয়াযুক্ত খাবার খেয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করুন। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে।

১৯. গ্রিন টি পান করুন

নিয়মিত গ্রিন টি পান করুন। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যা রক্তের শর্করা কমাতে ভূমিকা রাখে।

২০. ধূমপান বর্জন করুন

ধূমপানে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ হলো দেহের হরমোনজনিত পরিবর্তন। এ কারণে ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে ধূমপান বর্জন করা উচিত।

সূত্র - কালের কণ্ঠ

ডায়াবেটিস সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এমন চারটি খাবার ও এর কাজ দেখে নিন

বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডায়াবেটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। ডায়াবেটিসের ফলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু তা কোনোভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।

ডায়াবেটিস ধরা পড়লে প্রথমেই মিষ্টি জাতীয় খাবার বন্ধ করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে একেবারে বদলে যায় প্রতিদিন খাবারের রুটিন। চিকিৎসকের পরামর্শে ইনসুলিন ইনজেকশনই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। তবে রোজ রোজ ইনসুলিন ইনজেকশন না নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়ে, একেবারে সামান্য খরচে। এমন চারটি খাবার রয়েছে যা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা থাকবে একেবারে নিয়ন্ত্রণে। চলুন জেনে নেয়া যাক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

করলা : গবেষণায় দেখা গেছে, করলার মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক এবং ইনসুলিন ইনজেকশনের থেকেও বেশি কার্যকর। চিকিৎসকরা বলছেন, কাঁচা করলা বা করলার রস নিয়মিত খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

গম : যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের জন্য গম খুবই উপকারী। আটার রুটি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সবুজ শাক-সবজি : চিকিৎসকদের মতে, যেকোনো সবুজ শাক, যেমন সর্ষে শাক-সবজি, পালং শাক, মুলা শাক ইত্যাদি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

কুমড়ার বীজ : ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ কুমড়ার বীজ রোদে শুকিয়ে নিয়ে নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। যখনই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করবে, তখনই দু'একটা কুমড়ার বীজ মুখে রাখলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমবে এবং একই সঙ্গে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সূত্র - কালের কণ্ঠ

Sunday, November 3, 2019

ডায়াবেটিস রোগী কী কী খাবেন এবং কতটুকু খাবেন?

ডায়াবেটিস রোগী কী কী খাবেন এবং কতটুকু খাবেন?

দুই ধরনের খাবার গ্রহণকারী রোগীদেরই দৈনিক ৫০০ মিলি দুধ (ননিবিহীন) ৩০ গ্রাম চর্বি গ্রহণ করতে হবে। গোশত সপ্তাহে বা মাসে একবার গ্রহণ করবেন অথবা সম্পূর্ণ পরিহার করবেন। চর্বিবিহীন গোশত দৈনিক ৬০-৯০ গ্রাম খাওয়া যেতে পারে। দৈনিক সম্পূর্ণ ডিম খাওয়া যাবে না, তবে ডিমের সাদা অংশ দৈনিক দুইবার খাওয়া যেতে পারে। দুধ বা পানীয়র সাথে একটি ট্যাবলেট বা একফোঁটা নন কার্বোহাইড্রেট সুইটেনার্স যেমন- স্যাকারিন, সরবিটল অ্যাসপারমেট দেয়া যেতে পারো অথবা ডায়াবেটিক মিষ্টি ডিজার্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মোটা ডায়াবেটিস রোগীদের নন-কার্বোহাইড্রেট সুইটেনার্স বাদ দিতে হবে কারণ এগুলোয় ক্যালরির পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট সুইটেনার্সের মতো প্রায় সমপরিমাণ থাকে।


একটা কথা মনে রাখবেন, ডায়াবেটিস রোগীর খাবার যতটা সম্ভব পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবারের কাছাকাছি হতে হবে।

সীমিত ডায়াবেটিক খাবার গ্রহণকারী রোগীর জন্য দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা


দৈনিক বরাদ্দ: ৫০০ মি.লি. দুধ এবং ৩০ গ্রাম চর্বি (ঘি-বাটার, তেল, মারজারিন অথবা পনির)


সকাল ৬টা: কাপ (১২০ মি.লি.) দুধ-চা-কফি (চিনি দুধ ছাড়া)


সকাল ৮টা (নাশতা) : কাপ খিচুড়ি, দোসা, টুকরো পাউরুটি (বরাদ্দকৃত চর্বি থেকে বাটার বা পনির) ১টি স্যান্ডেউইচ, ১টি ডিম (সেদ্ধ বা পোচ করা বা ফোটানো) অথবা নাশতার তালিকা থেকে অন্য যেকোনো খাবার। ২০ গ্রাম মিষ্টিবিহীন সিরিয়াল কফি অথবা চা (চিনি ছাড়া) দৈনিক বরাদ্দ থেকে দুধসহ)


সকাল ১০টা : কাপ (১২০ মিলি) স্যুপ, ফলের রস, বাটারমিল্ক, ফল- আপেল, কমলা ইত্যাদি।

চা অথবা কফি- দুধসহ, ৩টি মিষ্টিবিহীন বিস্কুট, টুকরো মচমচে পাউরুটি।


দুপুর ১২টা (দুপুরের প্রধান খাবার) : কুচি কুচি করে কাটা সবজিসহ কাপ স্বচ্ছ স্যুপ, বাটার বা পনিরসহ টুকরো সম্পূর্ণ পাউরুটি, ৬০-৯০ গ্রাম চর্বিবিহীন গোশত (মুরগি, মাছ) অথবা ১টি ডিম, ১টি ফল (আপেল বা কমলা), কাপ দই, কাপ ভাত ২টি চাপাতি পাউরুটি অথবা ৩টি চাপাতি হাফ কাপ ভাত অথবা কাপ ভাত বা ৪টি চাপাতি, ৬০-৯০ গ্রাম চর্বিবিহীন গোশত, এক কাপ ডাল, সবজি সালাদ এবং কাপ দই।

কাপ ভাত ২টি চাপাতি অথবা ৩টি চাপাতি হাফ কাপ ভাত অথবা কাপ ভাত অথবা ৪টি চাপাতি, কাপ সাদামাটা ডাল, কাপ কারি কাপ দই। দুধসহ চা বা কফি।


বিকেল ৪টা : দৈনন্দিন বরাদ্দ থেকে দুধসহ কাপ চা বা কফি। ১টি ফল, ৩টি চিনিবিহীন বিস্কুট, টুুকরো মচমচে পাউরুটি বা হালকা নাশতা (সকালের নাশতার তালিকা থেকে)


সন্ধ্যা ৬টা : গ্লাস বা কাপ (১২০ মিলি) স্যুপ, ফলের রস, বাটার মিল্ক, সালাদ দুধসহ চা কিংবা কফি।


রাত ৮টা (রাতের প্রধান খাবার) : দুপুরের প্রধান খাবারের মতো একই।


রাত ১০টা: দৈনন্দিন বরাদ্দ থেকে অবশিষ্ট দুধসহ ১৫ গ্রাম ওভালটিন কিংবা যেকোনো পানীয়। পনির বা বাটারসহ বা টুকরো পাউরুটি।


অবাধ ডায়াবেটিক খাবার


অবাধ ডায়াবেটিক খাবার সেসব রোগীর জন্য যারা অতিরিক্ত মোটা নন। এদের খাবার নিচের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়-

এক. যেসব খাবার পরিহার করতে হবে


কন্দ জাতীয় সবজি এবং কাঁচা কলা

টাটকা ফলমূল যেমন কলা, আম, সফেদা, আতা, আনারস, পেয়ারা।
শুকনো ফল যেমন খেজুর, ডুমুর, খুবানি, কিশমিশ, চিনি, গুড়, মিছরি
গ্লুকোজ, জ্যাম, মধু, মারমালেড
খেজুর, তাল বা আখের রস, ফলের রস, চিনির রস মেশানো ফল, মিষ্টি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, পিঠা, পুডিং, জেলি, আইসক্রিম, ক্রিম বিস্কুট, মিষ্টি ঘনীভূত দুধ বা যেকোনো মিষ্টি দুধ, ঘন সস ক্রিম, অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় যেমন ওয়াইন, শেরি, বিয়ার, হুইস্কি ইত্যাদি। সালাদ ড্রেসিং, অতিরিক্ত পানীয় মিশ্রণ যেমন ওভালটিন, হরলিক্স ইত্যাদি। সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড যেমন ঘি, ডালডা ইত্যাদি। শূকর, গরু খাসির গোশত, সসেজ। শুকনো খাবার।


দুই. পরিমাণে কম খাওয়া যাবে


দুধ, ঘন স্যুপ, সব টাটকা শুকনো ফলমূল, আলু, মটরশুটি সেকা শিম। সব ধরনের রুটি, বিস্কুট মচমচে রুটি, সিরিয়াল এবং পরিজ, ম্যাকারনি, স্ক্যাগেটি, কাস্টার্ড প্রচুর ময়দার খাবার। গোশত, ডিম, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড যেমন পরিশোধিত বাদাম তেল, সূর্যমুখী তেল, স্যানফ্লাওয়ার তেল ইত্যাদি।

বাটার, মার্জারিন, পনির, ক্রিম, চর্বিবিহীন গোশত, ডায়াবেটিক খাবার, সব সিরিয়াল এবং ডাল, ফল যেমন- আপেল, পেঁপে, তরমুজ কমলা


তিন. ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে


পানি এবং সোডা পানি, দুধসহ চা কফি (চিনি ছাড়া), ডায়াবেটিক ফ্রুট ড্রিংকস, স্বচ্ছ স্যুপ কিংবা গোশতের নির্যাস, ভেষজ, সিজোনিংস মসলা

স্যাকারিন এবং এসপারমেট প্রিপারেশন


নিচের ফলমূল এবং শাকসবজিতে খুব সামান্য পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে এবং কারণে ইচ্ছেমতো খেতে কোনো বাধা নেই।


. সব ধরনের সবুজ শাক যেমন পালংশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, কচুশাক ইত্যাদি।

সবজি যেমন- বেগুন, অ্যাসপারাগাস, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, শসা, খিরা, মুলা, ওলকপি, করলা, উচ্ছে, শালগম, কাঁচা টমেটো, পেঁয়াজ, মাশরুম, কাঁচা পেঁপে, ঝিঙে, চিচিঙা, ধুন্দল, পটোল, চালকুমড়া, ডাঁটা, লাউ, ফ্রেঞ্চ বিন, কলার থোড় এবং মোচা, সামান্য পরিমাণ টাটকা বা হিমায়িত মটর।
ফল যেমন- কালোজাম, বৈচি জাতীয় ফল, লেবু, আমড়া, জাম্বুরা, কামরাঙা, বাঙ্গি, জামরুল, আমলকী ইত্যাদি।


এই খাবারগুলো কেবল সামান্য ডায়াবেটিকস রয়েছে এমন রোগী যারা অতিরিক্ত মোটা নন তাদের জন্য। যা হোক, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং আদর্শ শারীরিক ওজন থাকলে সুষম উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সাথে সীমিত পরিমাণ চিনি গ্রহণ করা যেতে পারে।


-ডা. ওয়াইনাইজা রহমান

সহযোগী অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।